পার্সোনালিটি টেস্ট

পার্সোনালিটি টেস্ট: তুমি পরিকল্পনাকারী, অভিযাত্রী, সংযোগকারী নাকি চিন্তাবিদ?

পার্সোনালিটি টেস্ট শুরু করো

সাইনআপ নেই · যেখানে খুশি শেয়ার করো

ট্যুরের আগে কে এক্সেল শিটে বাজেট বানায়, কে বলে "চল আগে যাই, পরে দেখা যাবে", কে খেয়াল রাখে সবার মন ভালো আছে কি না, আর কে আগে গুগল করে জায়গাটার ইতিহাস? একই গ্রুপে চার রকম মানুষ, আর পার্সোনালিটি টেস্ট বলে দেয় তুমি কোনটা। ১২টি প্রশ্ন, প্রতিটিতে চারটি পছন্দ, কোনো ঠিক-ভুল উত্তর নেই।

শেষে চারটি টাইপের একটি আসে: পরিকল্পনাকারী, অভিযাত্রী, সংযোগকারী বা চিন্তাবিদ। প্রতিটির সাথে তোমার শক্তির জায়গা আর একটা চ্যালেঞ্জ লেখা থাকে, যেমন পরিকল্পনাকারীর চ্যালেঞ্জ: প্ল্যান ভেঙে গেলে ছেড়ে দিতে পারা।

এটা চাকরির ইন্টারভিউয়ের সাইকোমেট্রিক টেস্ট নয়, আর ষোলো অক্ষরের কোনো কোড দেয় না। তিন মিনিটে একটা সহজ ছবি, যেটা নিয়ে বন্ধুদের সাথে চায়ের টেবিলে তর্ক করা যায়, আর যেটা শুনে কাজিনরা বলে "হ্যাঁ, এটা তো তুই-ই"।

1 নিজের সম্পর্কে ১২টি প্রশ্নের উত্তর দাও
2 তোমার পার্সোনালিটি টাইপ জেনে নাও
3 শেয়ার করো আর বন্ধুদের সাথে মিলিয়ে দেখো

পার্সোনালিটি টেস্ট কী, আর কাদের কাজে লাগে?

এটা চার টাইপের একটা ফ্রি টেস্ট: তুমি ছুটির দিন, গ্রুপ প্রজেক্ট, ঝামেলা আর সিদ্ধান্তের সময় কীভাবে চলো, সেটা দেখে একটা টাইপ ঠিক করে। কোনো টাইপ অন্যটার চেয়ে ভালো নয়; অভিযাত্রী ছাড়া ট্যুর হয় না, পরিকল্পনাকারী ছাড়া ট্যুর ফিরে আসে না।

যারা নিজেকে একটু গুছিয়ে বুঝতে চায়, যারা নতুন ক্লাসে বা অফিসে পরিচয়ের জন্য মজার কিছু খোঁজে, আর যে কাপল জানতে চায় কেন একজন লিস্ট বানায় আর অন্যজন লিস্ট হারায়, তাদের জন্য।

পার্সোনালিটি টেস্টের ছবি: একটি মস্তিষ্ক, একটি নোটপ্যাড, একটি কম্পাস আর একটি হ্যান্ডশেক, চার টাইপের জন্য চারটি প্রতীক

চার টাইপ কীভাবে বাছাই হয়?

এখানে পয়েন্ট জমে না, টাইপ গোনা হয়। প্রতিটি প্রশ্নের চারটি অপশন চারটি টাইপের সাথে বাঁধা। যেমন বন্ধু সমস্যায় পড়লে "ঘুরতে নিয়ে যাও" অভিযাত্রী, "ঘণ্টার পর ঘণ্টা শোনো" সংযোগকারী, "বিশ্লেষণ করো" চিন্তাবিদ, "ধাপে ধাপে প্ল্যান" পরিকল্পনাকারী।

১২টি উত্তরে যে টাইপ সবচেয়ে বেশি আসে, সেটাই তোমার ফল। দুটো সমান হলে একটি দেখানো হয়, তবে বর্ণনা পড়লে অন্যটাও চিনতে পারবে। প্রথম যেটা মনে আসে সেটাই বাছো, বেশি ভাবলে উত্তর কৃত্রিম হয়ে যায়।

পার্সোনালিটি টেস্টে কী ধরনের প্রশ্ন থাকে?

সব প্রশ্ন ছোট ছোট রোজকার পরিস্থিতি, যেখানে চার রকম মানুষ চার রকম কাজ করে। কয়েকটি নমুনা, আমাদের জীবনের মতো করে:

  • হঠাৎ একটা সরকারি ছুটি পড়ল। তুমি টু-ডু লিস্ট ধরে কাজ সারো, হুট করে বাসে উঠে বেরিয়ে পড়ো, বন্ধুদের ডেকে বিরিয়ানি রাঁধো, নাকি সারাদিন বই?
  • ভার্সিটির গ্রুপ অ্যাসাইনমেন্টে তুমি সেই জন, যে আইডিয়া দেয়, যে সবাইকে শান্ত রাখে, যে রেফারেন্স যাচাই করে, নাকি যে কাজ ভাগ করে দেয়?
  • বিয়ের অনুষ্ঠানে তোমাকে পাওয়া যায় স্টেজ সাজাতে, নাচের আসরে, সব টেবিলে গল্প করতে, নাকি এক কোণে দীর্ঘ আলাপে?
  • একটা প্রশংসা বেছে নাও: অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়, আন্তরিক, বুদ্ধিমান নাকি নির্ভরযোগ্য?
  • তোমার মূলমন্ত্র: "কিন্তু কেন?", "আগে কাজ পরে মজা", "জীবন একটাই" নাকি "একসাথে থাকলেই ভালো"?

পার্সোনালিটির ফল পড়ে কী করব?

প্রথমে চ্যালেঞ্জের লাইনটা পড়ো; শক্তির জায়গাটা তুমি এমনিতেই জানো। সংযোগকারীর চ্যালেঞ্জ "নিজে কী চাও সেটা মুখ ফুটে বলা", চিন্তাবিদের "সব জানার আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া"। এরপর কাছের মানুষকে টেস্ট দিতে বলো। অভিযাত্রী আর পরিকল্পনাকারী এক ঘরে থাকলে ট্যুরের প্ল্যান নিয়ে কেন প্রতিবার ঝগড়া হয়, সেটা এক মিনিটে পরিষ্কার হয়ে যায়।

আমাদের এখানে পার্সোনালিটি টেস্ট কোথায় কোথায় চলে?

ভার্সিটির প্রথম সপ্তাহে নতুন বন্ধুদের সাথে পরিচয়ের সবচেয়ে সহজ রাস্তা এখন এটা: "তুই কোন টাইপ?" অফিসের টিম মিটিংয়ে কেউ বলে, "আমাদের টিমে তিনজন অভিযাত্রী, একজনও পরিকল্পনাকারী নেই, তাই ডেডলাইন মিস হয়", আর সবাই হেসে মেনে নেয়।

পহেলা বৈশাখ বা ঈদের আড্ডায় কাজিনরা একে অপরের ফল আন্দাজ করে, তারপর টেস্ট দিয়ে মেলায়; যার আন্দাজ ভুল হয়, সে ফুচকা খাওয়ায়। সবচেয়ে বেশি ঝগড়া হয় তখন, যখন নিজেকে চিন্তাবিদ ভাবা মানুষটা সংযোগকারী পায়।

পার্সোনালিটি টেস্ট নিয়ে প্রচলিত প্রশ্ন

পার্সোনালিটি টেস্ট কি সত্যিই আমার চরিত্র বলে দিতে পারে?

পুরো চরিত্র নয়, একটা প্রধান ঝোঁক। ১২টি প্রশ্নে মানুষের সব দিক ধরা সম্ভব নয়, আর এটা কোনো মনোবিজ্ঞানী যাচাই করা পরীক্ষা নয়। তবে বেশিরভাগ মানুষ ফল পড়ে বলে "হ্যাঁ, এটা আমিই", কারণ প্রশ্নগুলো এমন আচরণ নিয়ে যা আমরা রোজ করি কিন্তু খেয়াল করি না।

এটা কি MBTI বা ষোলো টাইপের টেস্টের মতো?

না। ওখানে চার অক্ষরের কোড আর ষোলোটি টাইপ, এখানে চারটি সহজ টাইপ আর কোনো কোড নেই। এই টেস্ট ছোট, বাংলায়, আর তিন মিনিটে শেষ। যারা ষোলো টাইপের ফল মনে রাখতে পারে না, তাদের জন্য "আমি অভিযাত্রী" বলা অনেক সহজ।

চার টাইপের মধ্যে কোনটা সবচেয়ে ভালো?

কোনোটাই না, আর এটাই টেস্টের মূল কথা। প্রতিটি টাইপের একটা শক্তি আর একটা চ্যালেঞ্জ আছে। একটা দলে চারটাই দরকার: কেউ শুরু করবে, কেউ শেষ করবে, কেউ সবাইকে একসাথে রাখবে, কেউ ভুল ধরবে। ফলে তোমার টাইপ শুনে কেউ ছোট করলে বুঝবে সে ফলটা পড়েনি।

দুটো টাইপের মাঝামাঝি মনে হলে কী করব?

খুবই স্বাভাবিক, কারণ অনেকের দুটো টাইপ কাছাকাছি সংখ্যায় আসে। যে টাইপটা দেখানো হয়েছে সেটা সামান্য এগিয়ে। চাইলে অন্য দিনে আবার দাও; মেজাজ অনুযায়ী উত্তর একটু বদলায়। দুটো ফল মিলিয়ে নিজেকে "চিন্তাবিদ, একটু পরিকল্পনাকারী" বলা একদম ঠিক আছে।

চাকরির আবেদনে এই পার্সোনালিটি টেস্টের ফল ব্যবহার করা যাবে?

না করাই ভালো। এটা বন্ধু আর পরিবারের জন্য বানানো মজার টেস্ট, কোনো নিয়োগের মাপকাঠি নয়। তবে নিজের শক্তি আর চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভাবার শুরু হিসেবে কাজে লাগে; ইন্টারভিউয়ে "আপনার দুর্বলতা কী" প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অনেকে এখান থেকেই শুরু করে।

পার্সোনালিটি টেস্টের উত্তর কি কেউ দেখতে পায়?

না। কোনো সাইনআপ নেই, উত্তর কোথাও পাঠানো হয় না, সব হিসাব তোমার ব্রাউজারে। ফল শেয়ার করলে শুধু টাইপের নাম আর এক লাইন বর্ণনা যায়। তাই গ্রুপ প্রজেক্টে কে "সবাইকে খুশি রাখে" বেছেছে, সেটা কেবল সে-ই জানে।

আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো

সব কুইজ →