রিলেশনশিপ টেস্ট

রিলেশনশিপ টেস্ট: তোমাদের সম্পর্কের ভিত কতটা শক্ত?

রিলেশনশিপ টেস্ট শুরু করো

সাইনআপ নেই · যেখানে খুশি শেয়ার করো

সম্পর্ক ভালো চলছে কি না, এটা বোঝা যায় রোমান্টিক মুহূর্তে নয়, বরং কঠিন সময়ে: সমস্যা হলে দুজনে কথা বলো, নাকি চুপ হয়ে যাও? টাকা আর ঘরের কাজ কীভাবে ভাগ হয়? শেষ কবে একসাথে প্রাণখুলে হেসেছ? রিলেশনশিপ টেস্ট ঠিক এই দিকগুলো নিয়ে ১০টি প্রশ্ন করে, আর উত্তর থেকে বলে তোমাদের সম্পর্কের ভিত কোথায় দাঁড়িয়ে।

ফল তিন রকম: "আরও ভালো করার সুযোগ আছে", "মজবুত টিম", বা "পাথরের মতো অটুট"। তুমি একাই দাও, কাউকে লিংক পাঠাতে হয় না, নাম লিখতে হয় না। সঙ্গীকেও আলাদা করে দিতে বলে দুজনের ফল মেলালে সবচেয়ে কাজে লাগে।

এটা কাউন্সেলিং নয়, কোনো বিশেষজ্ঞের রায়ও নয়। এটা দশটি সৎ উত্তরের একটা সারসংক্ষেপ, যা তোমাদের সেই কথাগুলো শুরু করতে সাহায্য করে, যেগুলো রোজকার ব্যস্ততায় বলা হয়ে ওঠে না।

1 তোমাদের সম্পর্ক নিয়ে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দাও
2 সাথে সাথে রেজাল্ট দেখো
3 শেয়ার করো বা টেস্টটা সঙ্গীকে পাঠাও

রিলেশনশিপ টেস্ট কী, আর কাদের জন্য বানানো?

এটা সম্পর্কের স্বাস্থ্য নিয়ে একটা দ্রুত স্ব-মূল্যায়ন। প্রশ্নের বিষয়: বিশ্বাস, খোলাখুলি কথা, একসাথে মজা, ঘরের কাজ ভাগ, আর একে অপরের লক্ষ্যে পাশে থাকা। মানে সেই জিনিসগুলো, যা ছাড়া প্রেম থাকলেও সংসার টেকে না।

বিয়ের পরের দম্পতি, বহু বছরের প্রেমিক-প্রেমিকা, বা যারা একসাথে থাকার কথা ভাবছে, সবার জন্য। বিশেষ করে যাদের মনে হচ্ছে "কিছু একটা ঠিক নেই কিন্তু কী, বুঝতে পারছি না", তাদের জন্য প্রশ্নগুলো আঙুল দিয়ে জায়গাটা দেখিয়ে দেয়।

রিলেশনশিপ টেস্টের ছবি: জড়িয়ে ধরা একটি মুখ, একটি লাল হার্ট, একটি চারাগাছ আর একটি ঊর্ধ্বমুখী চার্ট

টেস্টটা কীভাবে দিতে হয়, আর ফল কীসে ঠিক হয়?

প্রশ্ন একটার পর একটা আসে, প্রতিটিতে চারটি অপশন। সবচেয়ে কম স্বাস্থ্যকর উত্তরে ০, সবচেয়ে ভালোটায় ৩। দশটি মিলে সর্বোচ্চ ৩০।

১১ পর্যন্ত "আরও ভালো করার সুযোগ আছে", ১২ থেকে ২১ "মজবুত টিম", ২২ বা তার বেশি "পাথরের মতো অটুট"। যেমনটা হয় সেটাই বাছো, যেমনটা হওয়া উচিত সেটা নয়; নইলে ফল ভালো আসবে কিন্তু কাজে লাগবে না। শেষে ফলের ব্যাখ্যা আর শেয়ার বোতাম পাবে।

রিলেশনশিপ টেস্টে কোন বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন আসে?

প্রশ্ন সংসার আর সম্পর্কের বাস্তব দিক থেকে। নমুনা:

  • মাস শেষে টাকার টান পড়লে দুজনে খোলাখুলি হিসাব করো, নাকি একজন চেপে যায়?
  • শাশুড়ি বা শ্বশুরবাড়ি নিয়ে মতভেদ হলে কে কার পাশে দাঁড়ায়?
  • রান্না, বাজার আর বাচ্চা সামলানো, কাজ ভাগ হয় নাকি একজনের ঘাড়ে?
  • একে অপরের ফোনে পাসওয়ার্ড জানো, আর জানলে চেক করো কি?
  • শেষ কবে দুজনে একটা পুরো বিকেল শুধু মজা করে কাটিয়েছ?

ফল "আরও ভালো করার সুযোগ আছে" এলে কি সম্পর্ক বিপদে?

না, এটা সতর্কতা নয়, আমন্ত্রণ। অনেক সম্পর্ক শুরুর কয়েক বছরে এই ফল পায়, কারণ যোগাযোগ আর কাজ ভাগের অভ্যাস তৈরি হতে সময় লাগে। যে প্রশ্নে ০ বা ১ বেছেছ, সেটা সঙ্গীকে দেখাও আর জিজ্ঞেস করো সে-ও একই দেখে কি না। তিন মাস পর আবার দাও। স্কোর বাড়লে বুঝবে কথা বলা কাজ করেছে। যদি উত্তরে ভয় বা নিয়ন্ত্রণের কথা আসে, তাহলে টক্সিক রিলেশনশিপ টেস্ট দেখো, ওটা আলাদা বিষয়।

আমাদের দেশে এই টেস্ট কারা দেয়, আর কেন?

সবচেয়ে বেশি দেয় তারা, যাদের একজন প্রবাসে। মাসের পর মাস ভিডিও কলে সংসার চালানো জুটিদের কাছে "আমরা কি এখনো টিম" প্রশ্নটা বাস্তব, আর টেস্টটা সেটা সংখ্যায় দেখায়। নতুন বিয়ের দম্পতিরা যৌথ পরিবারের চাপে পড়ে দেয়, বুঝতে যে সমস্যা দুজনের, নাকি চারপাশের।

অনেকে বিয়েবার্ষিকীতে কেক কাটার আগে দুজনে আলাদা ফোনে দিয়ে ফল মেলায়, সেটা একটা ছোট রীতি হয়ে গেছে। আর বন্ধুদের আড্ডায় যখন কেউ সম্পর্ক নিয়ে হা-হুতাশ করে, কেউ একজন লিংকটা দিয়ে বলে "আগে টেস্ট দে, তারপর কথা"।

রিলেশনশিপ টেস্ট নিয়ে যা জানতে চাওয়া হয়

রিলেশনশিপ টেস্ট কি বিবাহিতদের জন্যও?

হ্যাঁ, বিবাহিতদের জন্য এটা বেশ কাজের, কারণ ঘরের কাজ, টাকা আর পরিবারের প্রশ্নগুলো সংসারে সবচেয়ে বেশি বাজে। প্রেমের সম্পর্কে থাকলে সেই প্রশ্নে ভবিষ্যতের ছবিটা ভেবে উত্তর দাও। ফল দুই ক্ষেত্রেই একই নিয়মে আসে।

টেস্টটা কি সঙ্গীকে না জানিয়ে দেওয়া যায়?

যায়, আর অনেকে সেটাই করে। ফল শুধু তোমার স্ক্রিনে আসে, কেউ নোটিফিকেশন পায় না। তবে ফল থেকে সবচেয়ে বেশি লাভ হয় যখন দুজনে আলাদা দিয়ে মেলাও, কারণ তখন বোঝা যায় কোন জায়গায় দুজনের দেখা আলাদা।

কত পয়েন্টে "পাথরের মতো অটুট" আসে?

৩০-এর মধ্যে ২২ বা তার বেশি হলে। ১২ থেকে ২১ হলে "মজবুত টিম", ১১ বা কম হলে "আরও ভালো করার সুযোগ আছে"। প্রতিটি প্রশ্নে ০ থেকে ৩ পয়েন্ট, তাই একটি খারাপ উত্তর পুরো ফল বদলায় না।

রিলেশনশিপ টেস্ট আর সম্পর্কের মিল টেস্ট কি একই?

না। রিলেশনশিপ টেস্ট দেখে সম্পর্কটা এখন কীভাবে চলছে: বিশ্বাস, কথা বলা, কাজ ভাগ। সম্পর্কের মিল টেস্ট দেখে তোমরা দুজন মানুষ হিসেবে কতটা মেলো: টাকার অভ্যাস, ঘুমের রুটিন, রসবোধ। প্রথমটা আচরণ মাপে, দ্বিতীয়টা স্বভাব।

ফল খারাপ এলে কার সাথে কথা বলব?

প্রথমে সঙ্গীর সাথে, নির্দিষ্ট প্রশ্ন ধরে। তারপর দরকার হলে এমন কারও সাথে, যাকে দুজনেই বিশ্বাস করো: বড় ভাইবোন, কাছের বন্ধু, বা একজন কাউন্সেলর। টেস্ট কোনো পেশাদার পরামর্শের বিকল্প নয়, এটা শুধু কথা শুরু করার জায়গা দেখায়।

টেস্টটা কতবার দেওয়া উচিত?

কয়েক মাস পরপর দিলে বদলটা ধরা যায়। প্রতিদিন দিলে মেজাজের ওঠানামাই ফল ঠিক করবে, সেটা কাজের না। অনেকে বছরে একবার, যেমন বিয়েবার্ষিকীতে দেয়, আর আগের ফলের স্ক্রিনশটের সাথে মেলায়।

আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো

সব কুইজ →