ক্রাশ টেস্ট

ক্রাশ টেস্ট: সে কি তোমাকে পছন্দ করে, নাকি শুধু ভদ্রতা?

ক্রাশ টেস্ট শুরু করো

সাইনআপ নেই · যেখানে খুশি শেয়ার করো

সে তোমার স্টোরিতে রিঅ্যাক্ট দেয়, কিন্তু মেসেজ দেয় না। ক্লাসে তোমার পাশেই বসে, কিন্তু সবার সামনে কথা বলে না। এটা পছন্দ, নাকি তুমি বেশি ভাবছ? ক্রাশ টেস্ট এই দ্বিধার একটা উত্তর দেয়। তোমার ক্রাশ তোমার সাথে কেমন আচরণ করে, তা নিয়ে ১০টি প্রশ্নের জবাব দাও: কে আগে মেসেজ দেয়, রিপ্লাই কত দ্রুত আসে, চোখাচোখি হলে কী হয়, আর আড্ডায় সে কোথায় বসে।

প্রতিটি উত্তরে পয়েন্ট জমে, ৩০-এ একটা স্কোর হয়, আর শেষে তিনটি ফলের একটি আসে: "আপাতত শুধুই বন্ধু", "কিছু একটা চলছে", বা "পুরোপুরি তোমাতে মুগ্ধ"। ফলটা তুমি একাই দেখো; চাইলে স্ক্রিনশট বন্ধুকে পাঠাও, ক্রাশকে না পাঠালেও চলে।

এটা মজার টেস্ট, মনের ভেতর ঢোকার যন্ত্র নয়। তবে প্রশ্নগুলো তোমাকে সেই ইঙ্গিতগুলো গুছিয়ে দেখতে বাধ্য করে, যেগুলো তুমি আলাদা করে খেয়াল করেছ কিন্তু একসাথে মেলাওনি।

1 তোমার ক্রাশ সম্পর্কে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দাও
2 সাথে সাথে রেজাল্ট দেখো
3 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো

ক্রাশ টেস্ট কী, আর কার জন্য?

এটা একা দেওয়ার টেস্ট, যেখানে তুমি তোমার ক্রাশের আচরণ বিচার করো, নিজের নয়। স্কুলের শেষ দিক থেকে ভার্সিটি, এমনকি অফিসের ক্রাশের ক্ষেত্রেও এটা দেওয়া হয়। যার সাথে কথা হয় কিন্তু কিছু বলা হয় না, তার জন্যই।

যে সব সময় "সে কি আমাকে লাইক করে" গুগল করে, বন্ধুদের চ্যাটের স্ক্রিনশট দেখায়, আর রাত দুটোয় "সিন" হওয়ার মানে খোঁজে, এই টেস্ট তার জন্য দশ মিনিটের শান্তি।

ক্রাশ টেস্টের ছবি: হার্ট-চোখের মুখ, একটি প্রেমপত্র, একটি চিন্তার বুদবুদ আর তীরবিদ্ধ একটি হার্ট

টেস্টটা কীভাবে স্কোর হিসাব করে?

প্রতিটি প্রশ্নে চারটি অপশন, কম থেকে বেশি আগ্রহের ক্রমে, আর প্রতিটির ০ থেকে ৩ পয়েন্ট। যেমন "কখনো আগে মেসেজ দেয় না" ০, "প্রতিদিন দেয়" ৩। দশটি প্রশ্ন মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩০।

৯ পর্যন্ত "আপাতত শুধুই বন্ধু", ১০ থেকে ১৯ "কিছু একটা চলছে", ২০ বা তার বেশি "পুরোপুরি তোমাতে মুগ্ধ"। সৎভাবে উত্তর দাও, যেমনটা সত্যি ঘটে, যেমনটা তুমি চাও তেমন নয়। নইলে নিজেকেই ঠকানো হবে।

ক্রাশ টেস্টে কী ধরনের ইঙ্গিত জিজ্ঞেস করা হয়?

প্রশ্নগুলো সেই ছোট ছোট আচরণ নিয়ে, যেগুলো আমাদের এখানে মুখে না বলা পছন্দের চিহ্ন। যেমন:

  • তোমার স্টোরিতে সে কি প্রতিবার রিঅ্যাক্ট দেয়, নাকি মাঝে মাঝে?
  • তোমার বলা ছোট কথা, যেমন প্রিয় বিরিয়ানির দোকান, সে কি মনে রাখে?
  • ক্যাম্পাসে সবাই মিলে আড্ডায় সে কি তোমার কাছাকাছি বসে?
  • রাতে মেসেজ দিলে রিপ্লাই পাঁচ মিনিটে, নাকি পরের দিন?
  • চোখাচোখি হলে সে হাসে, নাকি সরিয়ে নেয়?

ফল "আপাতত শুধুই বন্ধু" এলে কী করব?

প্রথমত, এটা তোমার সম্পর্কে কোনো রায় নয়। কেউ কেউ পছন্দ করলেও খুব কম প্রকাশ করে, বিশেষ করে যারা লাজুক বা যাদের পরিবার কড়া। ফলটা শুধু বলে এখনকার ইঙ্গিত কম। সবচেয়ে কাজের উপায় হলো সরাসরি একটু বেশি কথা বলা, একবার একসাথে চা খেতে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া, আর এক মাস পর আবার টেস্ট দেওয়া। স্কোর বদলালে বুঝবে।

আমাদের এখানে ক্রাশ টেস্ট এত জনপ্রিয় কেন?

কারণ সরাসরি জিজ্ঞেস করার সংস্কৃতি আমাদের কম। অনেক ক্রাশ বছরের পর বছর চলে শুধু ইঙ্গিত পড়ে পড়ে: কে কার প্রোফাইল ছবিতে কমেন্ট করল, কে ক্যান্টিনে কার জন্য জায়গা রাখল। সেই ইঙ্গিত পড়ার কাজটাকেই টেস্ট একটা সংখ্যায় নামিয়ে আনে।

ভার্সিটির নবীনবরণ, কোচিংয়ের নতুন ব্যাচ, ক্লাসের গ্রুপ প্রজেক্ট, এসব থেকে যে ক্রাশ জন্মায়, সেগুলো নিয়ে বন্ধুদের সাথে রাতভর বিশ্লেষণ হয়। এখন বন্ধুরা বলে "টেস্ট দিয়ে দেখ", আর ফল "পুরোপুরি তোমাতে মুগ্ধ" এলে পুরো গ্রুপ মেসেজ লেখার পরামর্শ দিতে নেমে পড়ে।

ক্রাশ টেস্ট নিয়ে সবাই যা জানতে চায়

ক্রাশ টেস্ট কি সত্যিই বলতে পারে সে আমাকে পছন্দ করে কি না?

নিশ্চিত করে না, কারণ শুধু তার মনের মানুষই সেটা জানে। টেস্টটা তোমার দেখা ইঙ্গিতগুলো একসাথে গুছিয়ে একটা সম্ভাবনা দেখায়। অনেক ইঙ্গিত মিললে আশাবাদী হওয়া যায়, কম মিললে অপেক্ষা করা যায়। শেষ উত্তর পেতে হলে কথা বলতেই হবে।

টেস্টের প্রশ্নের উত্তর কি আমার ক্রাশ দেখতে পাবে?

না। এটা তুমি একাই দাও, ফল শুধু তোমার স্ক্রিনে আসে। কোনো লিংক কাউকে পাঠাতে হয় না, নামও লিখতে হয় না। শেয়ার করলে শুধু তোমার ফলের লেবেল যায়, কোন প্রশ্নে কী বেছেছ তা যায় না।

ক্রাশ টেস্টে কত পয়েন্ট পেলে "মুগ্ধ" আসে?

৩০-এর মধ্যে ২০ বা তার বেশি পেলে "পুরোপুরি তোমাতে মুগ্ধ"। ১০ থেকে ১৯ পেলে "কিছু একটা চলছে"। ৯ বা তার কম হলে "আপাতত শুধুই বন্ধু"। প্রতিটি প্রশ্নের অপশন ০ থেকে ৩ পয়েন্টের, তাই একটা প্রশ্নেই ফল বদলায় না।

সে যদি শুধু অনলাইনে কথা বলে, তাহলেও কি টেস্ট দেওয়া যায়?

যায়, কারণ অর্ধেক প্রশ্ন মেসেজ, রিপ্লাইয়ের গতি আর মনে রাখা নিয়ে। সামনাসামনি দেখা না হলে চোখাচোখি বা আড্ডার প্রশ্নে সবচেয়ে কাছের অপশন বাছো। অনলাইন ক্রাশের ক্ষেত্রে ফল একটু কমের দিকে আসতে পারে, সেটা মাথায় রেখো।

ফল খারাপ এলে কি আমার ক্রাশকে ভুলে যাওয়া উচিত?

টেস্ট সেই সিদ্ধান্ত দেয় না। এটা শুধু এখনকার ইঙ্গিত মাপে, আর ইঙ্গিত বদলায়। কেউ পরীক্ষার চাপে কম রিপ্লাই দেয়, কেউ নতুন বন্ধুত্বে সময় নেয়। কয়েক সপ্তাহ পর আবার দাও; দুবারই কম এলে অন্তত মন খারাপের কারণটা স্পষ্ট হবে।

ক্রাশ টেস্ট কি ছেলে-মেয়ে দুজনের জন্যই?

হ্যাঁ, প্রশ্নগুলোতে কোনো লিঙ্গ ধরা নেই। যে কেউ, যার ওপর যে কারও ক্রাশ, একই ১০টি প্রশ্ন পায়। বয়সেরও সীমা নেই, তবে প্রশ্নগুলো স্কুল, ভার্সিটি আর প্রথম চাকরির জীবন মাথায় রেখে লেখা।

আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো

সব কুইজ →