রেড ফ্ল্যাগ টেস্ট

রেড ফ্ল্যাগ টেস্ট: বন্ধুরা কি তোমার পেছনে তোমাকে রেড ফ্ল্যাগ বলে?

রেড ফ্ল্যাগ টেস্ট শুরু করো

সাইনআপ নেই · যেখানে খুশি শেয়ার করো

"ভাই, ও তো পুরাই রেড ফ্ল্যাগ", এই লাইনটা আমরা অন্যদের নিয়ে যত সহজে বলি, নিজের দিকে তত সহজে তাকাই না। রেড ফ্ল্যাগ টেস্ট ঠিক সেই কাজটা করায়। তিন ঘণ্টা রিপ্লাই না পেলে কী করো, তর্কে ভুল ধরা পড়লে সরি বলো কি না, এক্সদের নিয়ে কী বলো, বিল ভাগাভাগিতে তোমার নিয়ম কী, এমন ১০টি প্রশ্ন।

ফল তিনটির একটি: গ্রিন ফ্ল্যাগ, বেইজ ফ্ল্যাগ বা চলন্ত রেড ফ্ল্যাগ। গ্রিন মানে তোমার সাথে সম্পর্ক শান্তির, বেইজ মানে ঠিকঠাক তবে কয়েকটা অদ্ভুত অভ্যাস, আর রেড মানে কয়েকটা জিনিস যে কাউকে চিন্তায় ফেলবে, কিন্তু প্রতিটাই বদলানো যায়।

টেস্টটা নিজের ওপর, অন্যের ওপর নয়; প্রশ্নে "তুমি" আছে, "সে" নেই। তাই সবচেয়ে কাজের হয় যখন সৎভাবে দাও, এমনকি উত্তরটা একটু লজ্জার হলেও।

1 ১০টি প্রশ্নের সৎ উত্তর দাও
2 তোমার ফ্ল্যাগের রং জেনে নাও
3 শেয়ার করো আর বন্ধুদেরও টেস্ট দিতে বলো

রেড ফ্ল্যাগ টেস্ট কী, আর কার দেওয়া উচিত?

এটা নিজের আচরণের একটা দ্রুত চেক: ডেটিং আর বন্ধুত্বে তুমি কেমন মানুষ। প্রশ্নগুলো অর্ধেক পছন্দের মানুষকে নিয়ে, অর্ধেক বন্ধুদের নিয়ে, তাই সম্পর্কে থাকো বা না থাকো, দেওয়া যায়।

বিশেষ করে তাদের জন্য, যারা সদ্য কারও সাথে কথা শুরু করেছে আর জানতে চায় নিজের কোন অভ্যাসটা সামনের মানুষটাকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে। আর তাদের জন্যও, যাদের বন্ধুরা বহুদিন ধরে "তুই পাঁচ মিনিট বললে বিশ মিনিট" বলে আসছে।

রেড ফ্ল্যাগ টেস্টের ছবি: একটি তিনকোনা পতাকা, ভুরু তোলা একটি মুখ, একটি সবুজ হার্ট আর একটি লাল সতর্ক ত্রিভুজ

গ্রিন, বেইজ আর রেড কীভাবে ভাগ হয়?

প্রতিটি প্রশ্নে চারটি উত্তর, সবচেয়ে ভদ্র থেকে সবচেয়ে ঝামেলার ক্রমে, ০ থেকে ৩ পয়েন্ট। যেমন বন্ধু তোমার প্ল্যানে না বললে "আচ্ছা, অন্য দিন" ০, "ব্যাপারটা গায়ে মাখো" ৩।

মোট ৩০-এর মধ্যে ৯ পর্যন্ত গ্রিন ফ্ল্যাগ, ১০ থেকে ১৯ বেইজ ফ্ল্যাগ, ২০ বা বেশি চলন্ত রেড ফ্ল্যাগ। একটা প্রশ্নে ৩ পেলেই রেড হয়ে যাবে না; একই ধরনের অভ্যাস বারবার এলে তবেই।

রেড ফ্ল্যাগ টেস্টে কোন অভ্যাসগুলো ধরা হয়?

প্রশ্নগুলো সেই ছোট আচরণ নিয়ে, যেগুলো নিয়ে এখানে বন্ধুমহলে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ওঠে। উদাহরণ:

  • রেস্টুরেন্টে বিল এলে তুমি সমান ভাগ করো, পালা করে দাও, নাকি আবারও "মানিব্যাগ বাসায় রেখে এসেছি"?
  • কাউকে দুই দিন সিন করে রেখে দিয়েছ। সরি বলে রিপ্লাই দাও, নাকি সে আবার মেসেজ করা পর্যন্ত অপেক্ষা?
  • টেবিলে পছন্দের মানুষের ফোনের স্ক্রিন জ্বলে উঠল। তাকাও না, আড়চোখে দেখো, নাকি পাসকোড এমনিতেই জানো?
  • এক্সদের নিয়ে তোমার বক্তব্য: "দুজনেই ভালো আছি", নাকি "ওরা সবাই পাগল"?
  • বন্ধু দারুণ কোনো খবর দিল। সত্যি খুশি হও, নাকি সাথে সাথে নিজের খবরটা তুলে আনো?

বেইজ ফ্ল্যাগ মানে কী, খারাপ নাকি ভালো?

বেইজ হলো মাঝের ধাপ: ভয়ের কিছু নেই, তবে বন্ধুরা এক নিঃশ্বাসে তোমার দু-তিনটা অদ্ভুত অভ্যাসের নাম বলে দিতে পারবে, যেমন দেরি করা বা প্ল্যান বাতিল হলে এক দিন মুখ ভার। বেশিরভাগ মানুষ এখানেই পড়ে, আর এটাই স্বাভাবিক। কাজের জিনিস হলো দেখা, কোন প্রশ্নে ৩ পয়েন্টের উত্তর দিয়েছ; ওই একটা-দুটো অভ্যাসই তোমাকে বেইজ থেকে গ্রিনে নিয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশে রেড ফ্ল্যাগ টেস্ট এত ভাইরাল কেন?

কারণ "রেড ফ্ল্যাগ" শব্দটা এখন আমাদের রোজকার কথায় ঢুকে গেছে: টিকটকের কমেন্টে, ভার্সিটির ক্যান্টিনে, বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী নিয়ে কাজিনদের গোপন বিশ্লেষণে। সবাই অন্যের পতাকা চেনে, নিজেরটা চেনার সুযোগ কম ছিল।

তাই মেসেঞ্জার গ্রুপে একজন "চলন্ত রেড ফ্ল্যাগ" পোস্ট করলে বাকিরা বলে "জানতাম", আর তারপর নিজেরা দিয়ে চুপ হয়ে যায়। কাপলরা একসাথে দিয়ে দেখে কে বেশি গ্রিন, আর যে হারে, সে পরের ফুচকার বিল দেয়।

রেড ফ্ল্যাগ টেস্ট: সাধারণ জিজ্ঞাসা

রেড ফ্ল্যাগ টেস্ট কি আমার সম্পর্কে, নাকি আমার সঙ্গীর সম্পর্কে?

তোমার নিজের সম্পর্কে। প্রতিটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে তুমি কী করো, সঙ্গী কী করে নয়। সঙ্গীর রেড ফ্ল্যাগ মাপতে চাইলে তাকে নিজে টেস্ট দিতে বলো, বা তার হয়ে উত্তর দাও; তবে তখন ফলটা তোমার ধারণা, তার সত্যিকারের আচরণ নয়।

চলন্ত রেড ফ্ল্যাগ এলে কি আমি সম্পর্কের অযোগ্য?

না। ফলের বর্ণনাতেই লেখা আছে: তুমি সৎভাবে উত্তর দিয়েছ, সেটারও দাম আছে, আর প্রতিটি অভ্যাস বদলানো যায়। রেড ফ্ল্যাগ কোনো চরিত্র নয়, কয়েকটা অভ্যাসের যোগফল। পাঁচবার ফোন দেওয়ার বদলে একবার মেসেজ, এটুকু বদলালেই পয়েন্ট নামতে শুরু করে।

গ্রিন ফ্ল্যাগ পেতে কি সব প্রশ্নে প্রথম অপশন দিতে হবে?

না, ৯ পয়েন্ট পর্যন্ত গ্রিন থাকে, তাই কয়েকটা প্রশ্নে দ্বিতীয় বা তৃতীয় অপশন দিয়েও গ্রিন আসে। সব প্রশ্নে নিখুঁত উত্তর দেওয়া মানুষ বাস্তবে নেই; এমন ফল এলে বরং ভাবো, সত্যি বলেছ তো?

সিঙ্গেল হলে রেড ফ্ল্যাগ টেস্ট দিয়ে লাভ আছে?

আছে, কারণ অর্ধেক প্রশ্ন বন্ধুদের নিয়ে: প্ল্যান বাতিল, বিল ভাগ, বন্ধুর সুখবরে প্রতিক্রিয়া। আর বাকি অর্ধেক ভবিষ্যতের জন্য দরকারি; কারও সাথে কথা শুরু হওয়ার আগে নিজের অভ্যাস জানা থাকলে প্রথম মাসেই কম ভুল হয়।

দুজনে একসাথে রেড ফ্ল্যাগ টেস্ট দিলে কীভাবে তুলনা করব?

আলাদা ফোনে, না দেখে উত্তর দাও, তারপর ফল মেলাও। শুধু রং নয়, কোন প্রশ্নে কে কোন অপশন বেছেছে সেটা দেখো; সেখানেই আসল কথা। খোঁচা দেওয়ার বদলে একটা অভ্যাস বেছে নাও, যেটা দুজনেই এক মাসে বদলাবে।

রেড ফ্ল্যাগ টেস্ট কি বিনামূল্যে আর গোপন?

হ্যাঁ, কোনো টাকা, অ্যাকাউন্ট বা ইমেইল লাগে না। উত্তর সার্ভারে যায় না, হিসাব তোমার ব্রাউজারেই হয়। চাইলে ফলটা শেয়ার করো, তখন শুধু "গ্রিন ফ্ল্যাগ" বা "বেইজ ফ্ল্যাগ" লেখাটা যায়, তুমি কোন অপশন বেছেছ তা কেউ জানে না।

আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো

সব কুইজ →